Natore, Bangladesh -2

অর্ধবঙ্গেশ্বরী রাণী ভবানী ********************** নাটোর রাজবংশের উজ্বলতম চরিত্র রাণী ভবানী। তার অসাধারণ ব্যাক্তিত্ব ও ধীশক্তির জন্য নাটোর রাজবংশ বাংলার মানুষের কাছে অম্লান হয়ে আছে। ১৭৪০সালে আলীবর্দ্দী খান বাংলা, বিহার ও উড়িশ্যার নবান হন। অপরদিকে তখন নাটোরের রাজা ছিলেন রাজা রামকাস্ত। ১৭৪৮ সালে রাজা রামকানে—র মৃত্যুর পর রাণী ভবানী নাটোর রাজ্যের ভার গ্রহন করেন এবং সুদীর্ঘ ৫০ বছর রাজ্য শাসন করেন। খোদ নবাবের এলাকায় মুর্শিদাবাদের কাছে বড়নগর সহ, লষ্করপুর, তাহিরপুর, বার্বাকপুর, মালদহ, ভাগালপুর, সাঁওতাল, বাংলাদেশের বর্তমান রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, যশোর, ফরিদপুর পৃভৃতি স্থানসহ মোট ১৪৬টি পরগণা ছিলো। হলওয়েল সাহেবের রির্পোট থেকে জানা যায়, কলকাতার উত্তর পূর্বে ১০ দিনের পথ নাটোর। এ রাজ্য প্রদক্ষীন করতে যানবাহনে সময় লাগবে ৩৫ দিন। প্রায় ২০ হাজার বর্গমাইলের এ রাজ্যের বার্ষিক রাজস্ব ছিলো ৭০ লক্ষ টাকা। তবে প্রকৃত আদায় দেড় কোটি টাকা। মারাঠা আক্রমনে বিপর্যস্ত নবাব আলীবর্দী রাণী ভবানীর সহায়তা নিয়েছিলেন। তার পরিবারবর্গ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আসবাব রাণী ভবানীর রাজ্য গোদাগাড়ি( বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ)তে কেল্লা স্থাপন করেছিলেন। ১৭৭৪ সালে নিযুক্ত সমগ্র ভারতের গভর্ণর জেনারেল হেষ্টিংস বলেন, রাজশাহী জমিদারী বাংলার দ্বীতিয় রাজ্য। ১৮১২ সালে লন্ডনে প্রকাশিত "ÒFifth Report on the Affairs of the East India Company""থেকে জানা যায়, রাজশাহী ভারতের মধ্যে সম্ভবত সর্বাপেক্ষা বড় জমিদারী ছিলো। আর এ রাজশাহীর জমিদারী ছিলো নাটোর রাজ্যের অর্ন্তভূক্ত। যার শাসক ছিলেন রাণী ভবানী নিজেই, তিনি শুধুই শাসক ছিলেন না, তাঁর কর্ম প্রেরণা থেকে জানা যায় তিনি ছিলেন সৃষ্টিশীল, দানশীল, দয়ালু, মহানুভব তথা উন্নত হৃদয়ের অধিকারী, আর এর ভিত্তিতেই প্রজাহিতৈশী রাণী ভবানীকে অর্ধবঙ্গেশ্বরী বলা হয়। তথ্য সূত্র- ১)নাটোরের ইতিহাস -লেখক সমর পাল। ২)রাজশাহীর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস -লেখক কালিনাথ চৌধুরী ৩)The Rajas of Rajshahi -Calcutta Review.