Mass grave of Narail, Bangladesh – 1

দেশ মাতৃকার স্বাধীনতা আর অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্ন নিয়ে ১৯৭১ দেশের মুক্তিকামী মানুষ অংশ নিয়েছিল স্বাধীনতা যুদ্ধে। ১৯৭১ সালে মার্চ মাসের প্রথম দিন থেকেই আন্দোলন সংগ্রামে মুখরিত ছিল নড়াইল । ৪ মার্চ নড়াইলের গঠন করা হয় নড়াইল সংগ্রাম কমিটি। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ভাষনের পর ওই রাতেই হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয় নড়াইল শহর ও পাশ্ববর্তী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন এলাকায়। ৮ মার্চ প্রতিটি থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করা হয়। ২৩ মার্চ শহরের চিত্রাবনী হলের সামনে অনুষ্ঠিত হয় বিশাল জনসভা। ২৭ মার্চ সকালে স্থানীয় মুক্তিকামী জনতা সরকারি অস্ত্রাগার ভেঙ্গে হাতে তুলে নেয় অস্ত্র। স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম থেকেই রুখে দাড়ান নড়াইলের বীর। জেলার বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হয় প্রশিক্ষন ক্যাম্প। যুদ্ধে অনেক আতœত্যাগ করতে হয়েছে নড়াইল বাসীকে। পাকিস্তানী সেনা বাহিনী ও তাদের সহযোগিতারা লোহাগড়ার ইতনায়, নড়াইলের জজ কোট সংলগ্ন চিত্রা নদীর পাড়ে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে হত্যা করা হয় শত শত মুক্তিকামী সাধারন মানুষকে। বিভিন্ন যুদ্ধে শহীদ হন মুক্তিযোদ্ধারা। ১০ ডিসেম্বর যুদ্ধে পরাজিত হয়ে আতœসমর্পন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডে অবস্থিত পাক বাহিনীর সদস্যরা। মুক্ত হয় নড়াইল। মুক্তিযোদ্ধারা অর্থনৈতিক মুক্তির যে স্বপ্ন নিয়ে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেছিলেন। তা আজো সম্পূর্নভাবে অর্জিত হয়নি।