আদ্যা বাড়ি মন্দির – ৩

নওগাঁ সদর হইতে প্রায় ৩৫ কিঃমিঃ উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত দেশের উন্নতম প্রাচীন ঐতিহাসিক মন্দির গুলোর অন্যতম মহাদেবপুর উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের দেবীপুরের আদ্যাবাড়ি মন্দির। ইতিহাসে এই মন্দিরের বিষয়ে তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু নেই। মহাদেবপুর উপজেলা হইতে মাত্র ৭ কিলো মিটার দূরে মহাদেবপুর- সরাইগাছী সড়কের উত্তর ধারে এই প্রাচীন মন্দিরটি অবস্থিত। মন্দিরের নির্মান শৈলী দেখে ধারনা করা হয় পাল রাজত্বকালে কোন এক সময় মন্দিরটি নির্মান করা হয়েছে। মাটি থেকে মন্দিরের চূড়ার উচ্চতা প্রায় ৬৫ ফুট। নিভৃত পল্লীর প্রাচীন এই ঐতিহ্যের ধারক স্থাপনার এখন দৈনদশা। ৪ বিঘা জমির উপর এই মূল মন্দিরটি কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলে ও অনুসংগ মন্দির গুলো ধসে পড়েছে। মন্দিরটির চারধারে ছিল সীমানা প্রাচির। মন্দিরের সামনে আছে সু-বিশাল ১টি দীঘি। পূর্বে এটি বৌদ্ধ মন্দির হিসাবে পরিচিত ছিল। পরবর্তিতে পালরা শৈব ধর্ম গ্রহন করে। এরপর এই মন্দিরটি চার পশে ১০৫টি শিব মন্দির নির্মান করা হয়। ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত মন্দির গুলো স্থায়িত্ব ছিল এবং নিয়মিত পুঁজা- হতো। এই মন্দিরের ৩টি দেবী ছিল আদ্যামাতা , অন্নপূর্না , গৌরীপট। ৩টি মূর্তিই ছিল পাথরের নির্মিত। আদ্যামাতা দেবীর ছিল ৪ হাত। মন্দিরের চূড়ার ৬৫ ফুট উচ্চতায় সুবিশাল একটি ত্রিসুলছিল যা ১০ থেকে ১৫ বছর আগে চুরি হয়ে যায়। এছাড়া মন্দিরে তিনটি সুবিশাল মট ছিল মট তিনটির মধ্যে মূল্যমান ধনরতœ লূকিয়ে থাতেপারে ভেবে তা রাতের অন্ধকারে ভেঙ্গে ফেলা হয় এবং মন্দিরের একটি ঘর ১০ ফুট মাটির নিচে ধসে যাওয়াই ঐ ঘরের নিচে ও ধনতেœর সন্ধান করা হয় প্রায় ৩০ ফুট গভির পযন্ত। তবে বর্তমানে মন্দির সংস্কার অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।